ট্রাফিক আইন মানি এবং যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ি

সর্বশেষ আপডেট নভেম্বর ২৮, ২০১৬, সোমবার

ছবিসূত্র : ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত

ঢাকাসহ সারাদেশের নগরগুলোতে মোটরগাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। মোটরগাড়ি চালানোর আইন-কানুন না জানা কিংবা আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে মোটরগাড়ির জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইন। মোটরগাড়ি চালাতে গিয়ে এগুলো অমান্য করলে আপনার বিরুদ্ধে জরিমানা কিংবা মামলা হতে পারে।ট্রাফিক আইন মানা আমাদের সকলেরই প্রয়োজন। নিচে কিছু নিয়মকানুনও সতর্কতা সম্পর্কে আলোচনা করা হল:

প্রয়োজনীয় সতর্কতা -

  • রাস্তা পারাপারে ফুট-ওভারব্রীজ/আন্ডারপাস/জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করুন, যত্রতত্র রাস্তা পারাপার দন্ডনীয় অপরাধ।
  • রাস্তা পারাপারের সময় হেডফোন ব্যবহার করা ও মোবাইলে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
  • পায়ে হেঁটে চলাচলের সময় ফুটপাত ব্যবহার করুন।
  • চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করবেন না।
  • রাস্তায়/ফুটপাতে নির্মাণ সামগ্রী, দোকানের মালামাল, দোকানের সাইনবোর্ড রাখবেন না।
  • ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণ করবেন না।
  • বাসের ছাদে, বাম্পারে, পা-দানিতে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • বাস স্টপিজ ব্যতীত অন্য কোন কোথাও বাসে উঠবেন না বা বাস থেকে নামবেন না।
  • কখনই চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে উদ্ধুদ্ধ করবেন না।
  • রেলওয়ে ক্রসিং/লেভেল ক্রসিং এ লাল বাতি জ্বলন্ত অবস্থায় রাস্তা পার হবেন না। ট্রেন চলে যাবার পর রাস্তা পার হোন।
  • ভ্রমনকালীন সময়ে অপরিচিত লোকের দেয়া কোন কিছু খাবেন না।
  • শারীরিক প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদেরকে বসার সুযোগ দিন।
  • বাসের নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করা হতে বিরত থাকুন।


অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি-

  • ফুটপাত দিয়ে চলাচল করুন।
  • আপনি নিজে মনে রাখুন ও আপনার শিশুকেও মানে রাখতে বলুন - নিরাপত্তাই প্রথম কথা।
  • শিশুদের ট্রাফিক আইনের সাথে পরিচিত করুন।


গাড়ি চালকদের প্রতি-

  • গাড়ি চালানোর পূর্বে গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে নিন ও হালনাগাদ কাগজপত্র সাথে রাখুন।
  • অযথা হর্ণ বাজাবেন না।
  • গাড়ি চালানোর সময় অবশ্যই সিটবেল্ট ব্যবহার করুন।
  • গাড়ি চালানোর সময় গতিসীমা মেনে চলুন।
  • ঘনঘন লেন পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন।
  • অযথা ওভারটেকিং করবেন না এবং সতর্কতার সাথে ওভারটেকিং করুন।
  • স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের লোগোসহ স্থায়ী স্টীকার ব্যতীত আলগা/অস্থায়ী কোন ধরণের স্টীকার ব্যবহার হতে বিরত থাকুন।
  • দূর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ির যন্ত্রাংশ চেক করে নিন।
  • উল্টো পথে যে কোন যান চালানো থেকে বিরত থাকুন।
  • গাড়ি চলাচলের নির্ধারিত পথে গাড়ি পার্ক করবেন না।
  • ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করবেন না।
  • ক্লান্ত/অসুস্থ/মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।
  • সর্বদা বাম লেন চালু রাখুন।
  • ইন্টারসেকশনে এবং রাস্তায় যাত্রী উঠানো/নামানো হতে বিরত থাকুন।
  • ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল জানুন এবং মেনে চলুন।
  • বাসের নির্দিষ্ট স্থান ব্যতীত যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করবেন না।
  • গাড়ী থামানোর ক্ষেত্রে সর্বদা রাস্তায় সাইড করে থামাবেন।
  • ডানে/বামে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করুন।


মোটর সাইকেল চালকদের প্রতি-

  • মটর সাইকেল চালানোর পূর্বে গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করে নিন ও হালনাগাদ কাগজপত্র সাথে রাখুন।
  • মটর সাইকেলে দুই জনের বেশী আরোহণ করবেন না।
  • চালক এবং আরোহী উভয়েই হেলমেট ব্যবহার করুন।
  • ফুটপাতে মটর সাইকেল চালাবেন না।
  • উল্টো পথে মটর সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকুন।
  • গাড়ি চলাচলের নির্ধারিত পথে মটর সাইকেল পার্ক করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না।
  • ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে মোটর সাইকেল চালাবেন না।


মালিকদের প্রতি-

  • চালক নিয়োগের পূর্বে চালকের দক্ষতা, বৈধ লাইসেন্স ও ঠিকানা যাচাই করে নিন।
  • চালকের মেকানিক্যাল ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কেও জ্ঞান যাচাই করে নিন।
  • ড্রাইভাররা যাতে মাতাল/অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
  • চালক এর পর্যাপ্ত বিশ্রাম এর বিষয়টি গুরত্ব দিন।
  • লং রুটের বাস/ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান এ দুজন চালক এর ব্যবস্থা রাখুন।
  • আপনার গাড়ির হালনাগাদ কাগজপত্র গাড়িতে সংরক্ষণ করুন।
  • গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ণ, হুটার, বিকন লাইট সংযোজন/ব্যবহার (প্রয়োজন  ছাড়া) করা থেকে বিরত থাকুন।
  • মাইক্রোবাসের কাঁচে কৃত্রিম আবরণ (টিনটেড পেপার) লাগাবেন না।